দেশীয় শাড়ি

বাংলাদেশের পাঁচ শাড়ি

দেশিয় শাড়ি​

বাংলাদেশে যুগ যুগ ধরে বোনা হচ্ছে অসংখ্য ধরনের শাড়ি—যার প্রতিটি নকশা, রঙ, সুতা এবং বয়নকৌশলে ফুটে ওঠে এই দেশের সংস্কৃতি ও সৌন্দর্য। দক্ষ তাঁতিরা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে হস্তশিল্পকে ধরে রেখেছেন তাঁদের কারিগরি দক্ষতার মাধ্যমে।

 

জামদানি

বাংলাদেশের বয়নশিল্পের সবচেয়ে অভিজাত ও শিল্পসমৃদ্ধ শাড়ি হলো জামদানি—হাতে বোনা শাড়ির অনন্য উদাহরণ। মসলিনের নকশাবিহীন ধরন থেকে আলাদা করে জামদানি পরিচিত ‘ফিগারড মসলিন’ হিসেবে।

সুতার সূক্ষ্মতা যত বাড়ে, বয়নে সময় ততই বেশি লাগে। এখনকার কারিগররা ৫০০ কাউন্টের সুতি সুতায় জামদানি বুনছেন, যা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও শ্রমনির্ভর। নকশা তোলা হয় সরাসরি বুননের সময়, এবং আগে ব্লাউজ পিস না থাকলেও পরবর্তীতে তা যুক্ত হয়েছে। জটিল মোটিফ ও সময়সাপেক্ষ বয়নের কারণেই জামদানির মূল্য নির্ধারিত হয়।

বেনারসি শাড়ি

বিয়ের শাড়ি বলতে যে নামটি প্রথম মনে আসে, তা হলো বেনারসি। মিরপুরের বেনারসিপল্লিতে গড়ে ওঠা এই শিল্প একসময় ভারতের বেনারস থেকে আসা কারিগরদের হাত ধরে শুরু হলেও এখন এটি সম্পূর্ণ বাংলাদেশের নিজস্ব ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। সিল্ক সুতা দিয়ে বোনা বেনারসিতে জমিন অলংকরণে ব্যবহৃত হয় রুপালি–সোনালি জরি ও মিনা। এখন কটন বেনারসি, স্বর্ণকাতান, চান্দেরি, অরগাঞ্জা কাতানসহ আরও নানাধরনের বেনারসি তৈরি হচ্ছে। জংলা, বেল স্যাটিন, কাড়িয়াল, পাটোলা ইত্যাদি নাম ডিজাইন ও সুতার ধরন অনুযায়ী দেওয়া হয়।

মণিপুরি শাড়ি​

মণিপুরি সম্প্রদায় আগে শাড়ি বুনতেন না; বাঙালিদের অনুপ্রেরণায় তাঁরা শাড়ি বোনা শুরু করেন। নারীরাই এখানে হস্তচালিত তাঁতে কাপড় বোনেন, ঠিক জামদানির মতো দুজন মিলে কাজ করেন।
মণিপুরি বয়নকৌশলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো টেম্পল মোটিফ, যা পাড় ও আঁচলে ‘মৈরাং’ নামে পরিচিত নকশায় ফুটে ওঠে। শাড়ির জমিনেও নানা মোটিফ ব্যবহৃত হয়। বুটির সংখ্যা বাড়লে বয়নকালও বেশি হয়। এদের প্রায় সব শাড়িই সুতি সুতায় তৈরি।

টাঙ্গাইলের শাড়ি​

মণিপুরি সম্প্রদায় আগে শাড়ি বুনতেন না; বাঙালিদের অনুপ্রেরণায় তাঁরা শাড়ি বোনা শুরু করেন। নারীরাই এখানে হস্তচালিত তাঁতে কাপড় বোনেন, ঠিক জামদানির মতো দুজন মিলে কাজ করেন।
মণিপুরি বয়নকৌশলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো টেম্পল মোটিফ, যা পাড় ও আঁচলে ‘মৈরাং’ নামে পরিচিত নকশায় ফুটে ওঠে। শাড়ির জমিনেও নানা মোটিফ ব্যবহৃত হয়। বুটির সংখ্যা বাড়লে বয়নকালও বেশি হয়। এদের প্রায় সব শাড়িই সুতি সুতায় তৈরি।

রাজশাহী সিল্ক​

উন্নত মানের মালবেরি সুতার ওপর নির্ভর করে তৈরি হয় রাজশাহী সিল্ক বা বেঙ্গল সিল্ক। একসময় দেশের প্রায় সব রেশমবস্ত্রই রাজশাহীতে উৎপাদিত হতো, যদিও এখন আমদানিকৃত সুতার ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে অ্যান্ডি, র, সফট, হাফ, মসলিন, বলাকা, ডুপিয়ান, তসর, মটকা, জয়শ্রী, কাতানসহ নানা ধরনের রেশম কাপড় পাওয়া যায়।
ডিজাইনে এসেছে বৈচিত্র্য—ডিজিটাল প্রিন্ট, থ্রিডি প্রিন্টের পাশাপাশি টিকে আছে ঐতিহ্যবাহী ব্লক, স্ক্রিনপ্রিন্ট ও হ্যান্ড পেইন্টের কৌশল।

 

মূল প্রতিবেদন :

লেখক: শেখ সাইফুর রহমান
প্রকাশনা: প্রথম আলো
তারিখ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২২

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *